Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

ব্যাংকিং খাতে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি: সংকটে ১০টি ব্যাংক, পাচার ৩ লাখ কোটি টাকা

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে। ঋণ কেলেঙ্কারি, মুদ্রা পাচার ও আর্থিক অনিয়মের কারণে ১০টি ব্যাংক দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে। শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গত ১৫ বছরে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য। তবে পাচারে জড়িত মূলহোতারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।


শ্বেতপত্র কমিটির তথ্য অনুযায়ী, পাচার হয়েছে ২৪০ বিলিয়ন ডলার। মূল সহযোগী: ব্যাংকের এমডি, ডিএমডি, ঋণ বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অনিয়মে জড়িত: এস আলম, বেক্সিমকো, সামিটসহ বেশ কয়েকটি বড় করপোরেট গ্রুপ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কিছু ব্যাংক নিয়ে চলছে তদন্ত। ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেউলিয়া ব্যাংকগুলোর জন্য ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে।জানুয়ারিতে ফরেনসিক অডিট শুরু করার পরিকল্পনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে টাস্কফোর্স গঠন।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, "দুর্বল ব্যাংকগুলোর আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে। তবে বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ বিরল।" মুডিসের সর্বশেষ রেটিং প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং হ্রাস পেয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এ সুযোগে লাভবান হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য পাচার ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ